প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৯ AM

ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের তেল আবিবগামী ফ্লাইটে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। এ নির্দেশনায় সরাসরি কোনো ধর্মের কথা উল্লেখ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে সমালোচনা উঠেছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদনের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের শর্ত মেনে নিয়েছে এয়ার ফ্রান্স।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশ রয়েছে। যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ফরাসি কর্মীরাও এই বিধিনিষেধের মুখে পড়েছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব জানাতে নির্দেশ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ার ফ্রান্স কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত জানাতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বিমান সংস্থাটি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা জারি করে।
নিরাপত্তার যুক্তিতে নতুন বিধিনিষেধ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার যুক্তিতে নতুন নিয়ম কার্যকর করে ইসরায়েল।
এরপর ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলো কর্মীদের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ইসরায়েলি বিমান সংস্থা প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাই শুরু করেছে।
মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এয়ার ফ্রান্সের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি