
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নন; বিশ্বদরবারে বাঙালিকে সম্মানিত করেছেন তিনি। যতদিন বাঙালি থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিও টিকে থাকবে।
সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বকবি। বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে সম্মানিত করেছেন, বাংলা ভাষাকে সম্মানিত করেছেন। বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি।’
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার মতো কাজ অত্যন্ত নিন্দনীয়। কেমন করে মানুষ এ রকম কাজ করে? একজন মানুষ সারাজীবন শুধু লেখালেখির মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন। তার লেখা আমাদের মাথার ওপর বটবৃক্ষ হয়ে আছে। তার লেখা মানুষের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে।’
রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির স্থায়িত্ব নিয়ে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘যতদিন বাঙালি থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি থাকবে। এটাই বাস্তবতা। এটাই চিরসত্য। শুধুমাত্র গানের কথাই যদি ধরি, তার গানে কী নেই? সবকিছু আছে। এ ছাড়া সাহিত্যের সব শাখায় তার অবদান রয়েছে।’
তিনি স্মরণ করেন, অতীতে সরকারি পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি নিষিদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি বেতারে তাঁর গান প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে এসব বিধিনিষেধ তাঁর জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি বলে মনে করেন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর ভাষায়, ‘তাকে বাদ দিয়ে কিছু চিন্তা করা যায় না।’
নতুন প্রজন্মের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রামেন্দু মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নতুন প্রজন্মকে অনেক পড়তে হবে এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথের লেখা পড়তে হবে। কাজী নজরুল ইসলাম এবং আরও বিখ্যাত যারা আছেন, তাদের লেখা বেশি করে পড়তে হবে। পড়ার মধ্যেই মানুষের বিকাশ ও সুন্দর মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা সম্ভব।’
রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গান আমার ভীষণ প্রিয়। তার গান ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না। বারবার তার গান শুনি। তার গান আমাকে উজ্জীবিত করে, শক্তি জোগায়, সাহস দেয়।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি