প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম

মঙ্গল গ্রহে সফলভাবে মিশন পরিচালনার পর এবার সৌরজগতের আরও গভীরে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। নতুন এই মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে গ্রহাণুর গঠন এবং সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে দেশটি।
২০২৮ সালের মার্চে ‘এমবিআর এক্সপ্লোরার’ নামের একটি মহাকাশযান মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত এই মহাকাশযানটি সাতটি গ্রহাণু পরিদর্শনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোবে।
নির্ধারিত গতিপথ অর্জনের জন্য ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শুক্র গ্রহ এবং ২০২৯ সালের বসন্তে পৃথিবীর পাশ দিয়ে উড়ে যাবে এমবিআর এক্সপ্লোরার। এরপর প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীতে পৌঁছে এটি একে একে ১০২৫৩ ভেস্টারওয়াল্ড, ৬২৩ কাইমেরা ও ১৩২৯৪ রকলক্স গ্রহাণু পরিদর্শন করবে।
এরপর মঙ্গল গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে মহাকাশযানটি ৮৮০৫৫ ঘাফ, ২৩৮৭১ ওউশা ও ৫৯৯৮০ মোজা গ্রহাণুর দিকে যাবে।
এই অভিযানের চূড়ান্ত গন্তব্য প্রধান গ্রহাণু বেষ্টনীর মাঝামাঝি এলাকায় থাকা ২৬৯ জাস্টটিয়া। পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরের এই গ্রহাণুতে ২০৩৪ সাল নাগাদ পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জাস্টটিয়ায় পৌঁছানোর পর এমবিআর এক্সপ্লোরার প্রায় সাত মাস গ্রহাণুটিকে প্রদক্ষিণ করবে। এরপর সেখানে একটি ল্যান্ডার নামানোর চেষ্টা করা হবে। ল্যান্ডারটি গ্রহাণুটির গঠন বিশ্লেষণ করবে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, জাস্টটিয়া নেপচুনের বাইরের কাইপার বেল্ট অঞ্চলে গঠিত হয়েছিল। তাই গ্রহাণুটির গবেষণা থেকে সৌরজগতের জন্মলগ্নে পানি ও অন্যান্য জৈব উপাদান কীভাবে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২০ সালে দেশটি একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করে, যা ২০২১ সালে সফলভাবে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে।
দেশটির অর্থনীতিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে বিকল্প প্রযুক্তি খাত গড়ে তুলতেও মহাকাশ গবেষণা কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ