প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলে ‘গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চক্ষু চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এবং সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের ফটকের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চললেও এর বৈধতা ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বেশ সুসজ্জিত। চক্ষু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেখানে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। এ সময় এক স্কুলশিক্ষিকা চিকিৎসকের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি জানান, এখানে চক্ষু চিকিৎসক চিকিৎসা দেন এবং ভালো সেবা পাওয়া যায়—এমন ধারণা থেকেই তিনি সেখানে এসেছেন।
তবে ওই সময় চেম্বারে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। রিসেপশনে থাকা এক ব্যক্তি জানান, চিকিৎসক লাঞ্চে গেছেন এবং ২০ মিনিটের মধ্যে ফিরবেন। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর এক নারী প্রতিষ্ঠানে এসে চেম্বারে বসেন। পরে তিনি অ্যাপ্রোন পরে চিকিৎসকের আসনে বসেন।
তবে চক্ষুরোগ ও ওষুধের বৈজ্ঞানিক নামসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি ওই নারী। একপর্যায়ে তিনি জানান, খুলনা থেকে এক বছরের একটি কোর্স করেছেন এবং প্রায় পাঁচ বছর ধরে চক্ষু চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত।
তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন কিংবা চক্ষু চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সনদ দেখাতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালিদুর রহমান বলেন, ‘গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র’ পরিচালনার কোনো অনুমতি তার দপ্তর থেকে দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।
চক্ষু চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল সেবা কারা দিচ্ছেন, তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন ও চিকিৎসা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি