
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনটি বেশিরভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলে থেকেছে। তবে দু’বার বিএনপি ও একবার করে ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় পার্টি আসনটিতে জয়লাভ করে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় লড়াইটা হবে বিএনপি-জামায়াত সমানে সমান।
এখানে বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আকতারুজ্জামান মিয়া এবং জামায়াত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দিন মোল্লা দুই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
ইতিমধ্যে একক প্রার্থী হিসেবে আফতাব উদ্দিন মোল্লাকে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। মনোনয়নের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন আকতারুজ্জামান মিয়া। আবার এই দুই প্রার্থীর বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলায়। এই দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় তারা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন ধুমছে। পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি।
সভা-সমাবেশ উঠান বৈঠক, চায়ের আড্ডা চলছে পুরো দমে। এদিকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও খানসামা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরীর ছোট ভাই বিএনপির নতুন মুখ কর্নেল (অব.)
মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী দিনাজপুর-৪ (খানসামা- চিরিরবন্দর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি খানসামা উপজেলার বাসিন্দা।ইতিমধ্যে তিনিও বিভিন্ন জায়গায় সভা, সমাবেশ ও জনসংযোগ করে চলেছেন। এদিকে এ আসনটি বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার করতে। আর জামায়াত চায় প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ নিতে। অন্য দলের প্রার্থীদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি এ আসনে।
এ আসনে এবার নতুন ভোটার ১৪ হাজার ১৬৪। যার মধ্যে খানসামায় ৩ হাজার ৯৯৭ ও চিরিরবন্দরে ৮ হাজার ১৩৫। মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬১০ ভোটারের মধ্যে খানসামা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৪৪ ও চিরিরবন্দর ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৬ জন ভোটার আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে দিনাজপুর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। এই আসনে খানসামা উপজেলায় ২ হাজার ৪৬৩ ও চিরিরবন্দর উপজেলায় ৬ হাজার ৪২২ ভোটার কর্তন করা হয়েছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দিনাজপুর- ৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে ১৯৭৩ সালে আকবর আলী (আওয়ামী লীগ), ১৯৭৯ সালে মির্জা রুহুল আমিন (বিএনপি), ১৯৮৬ সালে মিজানুর রহমান মানু (বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি), ১৯৮৮ সালে মোহাম্মদ সাখাওয়াত রহমান (জাতীয় পার্টি), ১৯৯১ সালে মিজানুর রহমান মানু (আওয়ামী লীগ), ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির ও ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে আবদুল হালিম (বিএনপি) ও ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে মিজানুর রহমান মানু (আওয়ামী লীগ) এবং ২০০১ সালে আখতারুজ্জামান মিয়া (বিএনপি), ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী (আওয়ামী লীগ)।
প্রার্থীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী এলাকায় ভোটার, জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন। তবে খবর নেই অন্যান্য ইসলামি দল, বাম দল, নতুন গঠিত দল ও ছোট ছোট দলগুলোর প্রার্থীদের। তবে নতুন গঠিত দল এনসিপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও কৌশলগত কারণে তারা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে না বলে জানা গেছে।
জামায়াতের প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, “এই আসনে আমাদের অবস্থান খুবই ভালো। আমি সর্বসময় এখানেই অবস্থান করি এবং নিয়মিত জনগণের সাথে যোগাযোগ করে চলেছি। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কাজ করে যাব। দুই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিকায়ন ও রাস্তাঘাট পাকা করণ এবং সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব।”
কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, “২০০৮ সালের পর এই আসনে প্রতি বার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেও কেউ জিততে পারে নাই। আমি এবার মনোনয়ন প্রার্থী। আমি মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচিত হব। আর নির্বাচিত হলে সকলকে নিয়ে চিরিরবন্দর ও খানসামার সার্বিক উন্নয়নে একসাথে কাজ করে যাব।”
তিনি আরো বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল। ৫ আগস্ট জনগণ সেই স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় দিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। সরকার যে রোডম্যাপ দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
এছাড়াও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দিনাজপুর-৪ আসনে বর্তমানে রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে। বিএনপি ও সাধারণ জনগণের অনুরোধে তিনি এ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।