প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩২ AM

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনি শিশু ও বেসামরিক মানুষের ওপর লাগাতার হামলার প্রতিবাদে ক্রীড়াঙ্গনে আগে বহুবার ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত দেখা গেছে।
তবে সেই পথে হাঁটেনি নরওয়ে। বরং ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ গাজার মানবিক সহায়তা প্রকল্পে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
আগামী ১১ অক্টোবর ওসলোতে ইসরায়েলকে আতিথ্য দেবে নরওয়ে।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্ল্যাভনেস এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা কিংবা অন্য কোনো সংস্থাই দীর্ঘ সময় ধরে গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর চলমান অকল্পনীয় হামলা ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদাসীন থাকতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “গাজায় প্রতিদিন জীবন বাঁচানোর জন্য নিয়োজিত মানবিক সহায়তা সংস্থার কাজ এগিয়ে নিতে আমরা অনুদান পাঠাতে চাই। যেন তাদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও বেগবান হয়।”
আগামী সপ্তাহে নরওয়ে–ইসরায়েলের ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। তবে লভ্যাংশের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেনি নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি ফুটবল ফেডারেশন নরওয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় নিন্দা জানায়।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে ইসরায়েলি ফেডারেশন আরও দাবি করে, নরওয়ের অর্থ যেন “সন্ত্রাসী সংগঠন বা তিমি শিকার কার্যক্রমে” ব্যয় না হয়, নইলে দেশটি বৈশ্বিক সমালোচনার মুখে পড়বে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েল নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারছে না। নরওয়ের বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ ‘হোম’ ম্যাচটি হাঙ্গেরিতে খেলেছিল তারা। সেই ম্যাচে নরওয়ে ৪-২ গোলে জয় পায়। বর্তমানে পাঁচ দল নিয়ে গঠিত গ্রুপে নরওয়ে শীর্ষে, আর ইসরায়েল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
এদিকে, ১১ অক্টোবরের ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। উয়েফা ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় ৩ হাজার টিকিট কম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত উলেভাল স্টেডিয়ামে নরওয়ের জাতীয় দলের ম্যাচে প্রায় ২৬ হাজার দর্শক সমাগম হয়।