প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ AM

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার অসম্পন্ন সাক্ষ্য আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গ্রহণ করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তাঁর বাকি জবানবন্দি দেবেন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শুরু হয়। সেদিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁর অসম্পন্ন সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হলেও ওই দিন শুনানি হয়নি। এরপর নতুন করে ৬ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর জবানবন্দিতে তদন্তের বিভিন্ন ধাপ, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করছেন। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ হলে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের পর্ব শেষ হবে বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে তাদের সাক্ষী হাজির করতে পারবে। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মামলাটি পরবর্তী ধাপে যাবে।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এটি প্রসিকিউশনের বক্তব্য; মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জিয়াউল আহসান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতসংক্রান্ত তথ্য তিনি ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় সড়কের পাশে সজলসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের সময়কালে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্তের পর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং একই সময়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়। পরে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি