প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ AM

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম আসামের আপার আসাম অঞ্চল থেকে কোনো কার্গো পণ্য সরাসরি বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হলো। প্রায় ৭০ বছর পর ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক নদীবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক নৌযাত্রাও এভাবে পুনরায় শুরু হলো।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বগিবিল টার্মিনাল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল এর উদ্বোধন করেন। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
জাহাজটিতে থাকা মিথানল উৎপাদন করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিসিএল) নামরূপ কারখানা। পণ্যটির গন্তব্য ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দর। বগিবিল থেকে জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট (আইবিপিআর) ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মোট নৌপথ প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার।
ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই যাত্রাকে শুধু একটি পণ্য পরিবহন নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের করিডর হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পথ দিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিত মিথানল পরিবহনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিব্রুগড় একসময় পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ছিল। উনিশ শতকেই কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমার এই শহরে যাতায়াত করত। ১৮৮২ সালে ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে চালু হওয়ার পর নদীপথ ও রেলপথ মিলিয়ে এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চা, কাঠসহ বিভিন্ন পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে ডিব্রুগড়ের ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর আগের বাণিজ্যিক নৌপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নদীর নাব্যতা ও পণ্য পরিবহনের ধরনেও পরিবর্তন আসে। ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক ঘাটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এবার প্রায় সাত দশক পর সেই নদীপথে আবার আন্তর্জাতিক গন্তব্যের উদ্দেশে পণ্যবাহী জাহাজ যাত্রা করল।
ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বগিবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অবকাঠামো স্থাপনের পর এই চালান পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র ও ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য বাংলাদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি