প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সময়কার ২১৭ বছরের পুরোনো একটি সামরিক সংকেতলিপির রহস্য উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ইতিহাসের এই সংকেত ভাঙার আগে এ ধরনের কোড পাঠোদ্ধারের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না কার্টার চার্চের। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেনটিনেলওয়ানের এই এআই প্রকৌশলী রহস্যময় নথিটি পাওয়ার পর সেটি বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। এ কাজে তিনি ব্যবহার করেন জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা।
প্রায় ছয় ঘণ্টা এআই মডেল চালানোর পর সংকেতটির পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু থেকে শেষ করতে ছয় ঘণ্টাই লেগেছে এমন নয়। চার্চ জানিয়েছেন, তিনি কয়েক সন্ধ্যা ধরে নিজেও এই প্রকল্পে কাজ করেছেন।
নথিটি ১৮০৯ সালের। সে সময় নেপোলিয়নের নেতৃত্বাধীন ফ্রান্স অস্ট্রিয়ার সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নেপোলিয়নের সৎপুত্র ইউজিন দ্য বোহর্নের সদর দপ্তর থেকে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁর কাছে নথিটি পাঠানো হয়েছিল। নেপোলিয়নের নির্দেশেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংকেতের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই বার্তার পূর্ণ পাঠোদ্ধার প্রকাশিত হয়নি। চার্চ প্রথমে সংকেতযুক্ত নথিটির নিম্নমানের একটি স্ক্যান নিয়ে কাজ শুরু করেন। এতে সংখ্যা, অক্ষর ও হাতে আঁকা অস্বাভাবিক প্রতীক মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি সংকেত ছিল।
এআই প্রথমে নথিতে থাকা প্রতীকগুলো শনাক্ত করে তার একটি প্রতিলিপি তৈরি করে। এরপর ক্রিপ্টোলজি ইতিহাসবিদ ড্যানিয়েল ট্যান্টের তৈরি করা আংশিক সংকেতচাবি খুঁজে বের করে। পরে বাকি প্রতীকগুলো বিশ্লেষণের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক একটি সংকেত-ভাঙার ব্যবস্থা তৈরিতেও সহায়তা করে এআই।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু প্রতীক আলাদা অক্ষরের পরিবর্তে পুরো ফরাসি শব্দ নির্দেশ করছিল। এভাবে ধাপে ধাপে সংকেতটির পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তবে পাঠোদ্ধার করা বার্তাটি কোনো চমকপ্রদ গোপন তথ্য প্রকাশ করেনি। এটি মূলত একটি সামরিক প্রতিবেদন, যেখানে ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান এবং তাদের শক্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি আশপাশে শত্রুসেনা থাকলেও জেনারেল মারমোঁকে আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
পরে ইতিহাসভিত্তিক সংকেতবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিপটিয়ানার পরিচালনাকারী সাতোশি তোমোকিয়ো নথিটির পাঠোদ্ধার যাচাই করেন। তার যাচাইয়ের পর এতদিন অমীমাংসিত থাকা সংকেতটিকে সমাধান করা হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়।
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা একটি ঐতিহাসিক নথি আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পাঠোদ্ধারের ঘটনা ইতিহাস গবেষণা ও ক্রিপ্টোলজিতে এআইয়ের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি