মঙ্গলবার ● ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● আপিলের সুযোগ থাকলে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ সমীচীন নয়: হাইকোর্ট      ● প্রতিদিন হৃদরোগে মৃত্যু ৫৬২ থেকে ৭৭৭ জনের      ● বিশ্ব হার্ট দিবস আজ      ● হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় সংকট      ● রূপগঞ্জে যুবদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ফাঁকা গুলি      ● প্রেসক্লাবে ফুলেল শুভেচ্ছা, এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ      ● বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম      ● নাগরপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত      ● ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ২      ● রিসোর্ট ব্যবসার চাপে সুন্দরবন      ● পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক ভারতীয় হাইকমিশনারের      ● মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে হবে -- প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু       
আপিলের সুযোগ থাকলে রিট এখতিয়ার প্রয়োগ সমীচীন নয়: হাইকোর্ট
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম

শিশুর হেফাজত বা জিম্মা নিয়ে পারিবারিক আদালতের দেওয়া ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকলে সরাসরি হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিশুর জিম্মা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে উপযুক্ত বিচারিক ফোরাম হিসেবে পারিবারিক আদালতে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত।

শিশুর হেফাজত নিয়ে গর্ভধারিণী মায়ের করা হেবিয়াস করপাস রিটে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই এ রায় দেন। ২১ পৃষ্ঠার রায়ের মূল অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বিচারপতি কাজী জিনাত হক।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুটিকে তার বাবা-মা স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করেছিলেন কি না, নাকি রাজনৈতিক সংঘাত, আর্থিক সংকট ও তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করেছিলেন—এটি একটি জটিল ও বিতর্কিত বিষয়। রিটের সংক্ষিপ্ত শুনানিতে এ ধরনের বিতর্কিত তথ্যের সত্যতা নিরূপণ করা সম্ভব নয়।

রায়ে বলা হয়, পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ২৩ ধারায় পারিবারিক আদালতের আদেশ বা ডিক্রির বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিলের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কোনো বিশেষায়িত আইনে নির্দিষ্ট আপিলের ফোরাম থাকলে সরাসরি হাইকোর্টের রিট এখতিয়ার প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।

যেভাবে শিশুটির হেফাজত নিয়ে বিরোধ

রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ভোলার জসিম উদ্দিন ও রোজিনা আক্তার দম্পতি। তাদের প্রথম সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। পরে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই সাভারের নারী-শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের ছেলে বাসমিন আবরাবের জন্ম হয়।

জন্মের দুদিন পর মা ও শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত অসুস্থতা দেখা দিলে ১৭ জুলাই শিশুটিকে সাভারের সুপার মেডিকেল হাসপাতালে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। একই দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রায়ের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লকডাউন পরিস্থিতির কারণে জসিম উদ্দিন সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে ওই হাসপাতালে নিতে পারেননি। পরে ১৯ জুলাই শিশুটিকে সেখানে ভর্তি করা হয়। শিশুটি এনআইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাবা-মা সাময়িকভাবে হাসপাতাল থেকে চলে যান।

রিটকারীর দাবি, হাসপাতাল ফি, অগ্রিম ও বকেয়া বিল বাবদ মোট ৩৬ হাজার ১৩৮ টাকা দেওয়ার পর নিরাপত্তার কারণে এবং অর্থের সংস্থান করতে তারা স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে ১০ আগস্ট হাসপাতালে ফিরে গেলে কর্তৃপক্ষ আনুমানিক ৮ থেকে ৯ লাখ টাকার বিল দাবি করে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়। এরপর তারা ভোলার গ্রামের বাড়িতে ফিরে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থের সংস্থান করার চেষ্টা করেন।

জিডি থেকে ছোটমণি নিবাসে

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ভোলা থানা থেকে ফোন পাওয়ার পর ১৬ এপ্রিল থানায় যান জসিম ও রোজিনা। সেখানে তারা জানতে পারেন, তাদের শিশুর বিষয়ে ২০২৪ সালের ২২ জুলাই একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক এক নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। রিটকারীর দাবি, মামলা দায়েরের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একতরফাভাবে শিশুটির অভিভাবকত্ব, জিম্মা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের বিষয়ে তারা ডিক্রি পান। এ সময় চেষ্টা করেও জসিম-রোজিনা তাদের সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

শিশুটিকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রোজিনা আক্তার হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট শিশুটিকে গর্ভধারিণী মায়ের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি করেন।

বিবাদীদের দাবি, পরিত্যক্ত ছিল শিশু

রুলের বিরোধিতা করে বিবাদীরা দাবি করেন, শিশুটিকে প্রায় দুই মাস ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বায়োলজিক্যাল পিতা-মাতার অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর শিশুটিকে আজিমপুরের ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়।

তাদের দাবি, শিশুটিকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চাওয়া দম্পতি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পারিবারিক আদালতের ডিক্রি পেয়েছেন। বায়োলজিক্যাল বাবা-মা শিশুটিকে পরিত্যাগ করেছিলেন বলেও তারা দাবি করেন। ১৯ জুলাইয়ের পর দীর্ঘ সময় তারা শিশুটির সঙ্গে দেখা করেননি এবং তার অবস্থান জানার জন্য কোনো জিডিও করেননি—এমন যুক্তিও তুলে ধরা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯ জুলাই শিশুটিকে সংকটজনক অবস্থায় ভর্তি করার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ভর্তি ফরমে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও শিশুটির বাবা আর হাসপাতালে ফিরে আসেননি। পরে ২২ জুলাই তেজগাঁও থানায় জিডি করা হয়। শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলে ১৮ সেপ্টেম্বর লিখিত চিঠির মাধ্যমে তাকে ছোটমণি নিবাসে হস্তান্তর করা হয়।

রিটে বিতর্কিত তথ্য নির্ধারণের সুযোগ নেই

উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট বলেন, শিশুটিকে তার বাবা-মা স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করেছিলেন কি না, নাকি তৎকালীন রাজনৈতিক সংঘাত ও আর্থিক সংকটের কারণে তারা সাময়িকভাবে স্থান ত্যাগ করেছিলেন—এ প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা প্রয়োজন।

আদালত বলেন, দেওয়ানি ও সাংবিধানিক আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, রিট এখতিয়ারে সংক্ষিপ্ত শুনানির মাধ্যমে এ ধরনের বিতর্কিত তথ্যের সত্যতা নির্ধারণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য, সাক্ষ্য ও নথি পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপযুক্ত বিচারিক ফোরামে যেতে হবে।

সার্বিক বিবেচনায় হাইকোর্ট রিটে জারি করা রুল খারিজ করে দেন এবং আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল করেন। তবে গর্ভধারিণী মায়ের আইনি অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত স্পষ্ট করে দেন, সন্তানটির জিম্মা ও অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য রিটকারী উপযুক্ত দেওয়ানি বা পারিবারিক আদালতে আইনগত প্রতিকার চাইতে পারবেন।

রিটকারীর পক্ষে আদালতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন ও আইনজীবী প্রিন্স আল মাসুদ। বিবাদীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফৌজিয়া করিম ফিরোজ ও আইনজীবী কাজী মারুফুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ও নূর মোহাম্মদ আজমী। ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. লুৎফর রহমান।





স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  হাইকোর্ট   শিশুর হেফাজত   শিশুর জিম্মা   পারিবারিক আদালত   হেবিয়াস করপাস   পারিবারিক আদালতের ডিক্রি   অভিভাবকত্ব   সুপ্রিম কোর্ট   আইন ও আদালত   শিশুর অধিকার  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close