প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ AM

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ নামে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তদন্ত সূত্রের বরাত দিয়ে সমকাল জানিয়েছে, ৩৫ কাঠা জমি উদ্ধার করে দিতে পারলে এর একটি অংশের মালিকানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে হামলার দায়িত্ব নেন মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়া মাহমুদ।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শাহরিয়ার সঙ্গে জমির মালিক মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পূর্বপরিচয় ছিল। ওই সূত্রে জমি উদ্ধার এবং জমিতে যাওয়ার ফটক ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া। হামলা সফল করতে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় নেতা শাহ আলম অনিকসহ কয়েকজনের মাধ্যমে ভাসানটেক ও পল্লবীর বস্তি থেকে নিম্নআয়ের মানুষ ভাড়া করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দুই শতাধিক লোক নিউগিনি প্রপার্টিজের দুই পাশের ফটক দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে বলে তদন্ত সূত্র জানিয়েছে। এর আগে ফটকসংলগ্ন দুটি টিনের স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। পরে আবাসন প্রকল্পের অফিস ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনেও হামলা চালানো হয় এবং নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এক পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনের ৩৫ কাঠা জমি নিউগিনি প্রকল্পের ভেতরে রয়েছে। জমিগুলো খালি পড়ে আছে এবং রাস্তা না থাকায় সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নিউগিনি প্রপার্টিজের দাবি, মহিউদ্দিনের ২৩ কাঠা জমির মধ্যে ১৫ কাঠা কয়েক বছর আগে তাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি আট কাঠা তাঁর রয়েছে। জমির দখল ও রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শাহরিয়াকে মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার মিজানুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি। এ নিয়ে মামলায় মোট ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর আগে মুন্না, মামুন, আসলাম, শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্য তিন আসামিরও একই দিনে রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি