
রাত গভীরে ঘুমাতে যাওয়ার পর হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। জরুরি কোনো বার্তা এসেছে ভেবে ফোন হাতে নিতেই দেখা গেল খাবারে ছাড়ের বিজ্ঞপ্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আপডেট কিংবা শপিং অ্যাপের প্রচারণামূলক নোটিফিকেশন। এমন ঘটনা অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাজের ইমেইল বা প্রয়োজনীয় বার্তার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন ঘনঘন আসায় মনোযোগ নষ্ট হয় এবং তৈরি হতে পারে ‘অ্যালার্ট ক্লান্তি’। তবে আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড—যে ফোনই ব্যবহার করা হোক, কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তন করেই এসব নোটিফিকেশন অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
প্রথমত, যেসব অ্যাপ আর ব্যবহার করা হয় না, সেগুলো ফোন থেকে আনইনস্টল করে দেওয়া যেতে পারে। এতে স্বাভাবিকভাবেই নোটিফিকেশনের সংখ্যা কমবে এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর সেটিংস নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, নোটিফিকেশন কীভাবে স্ক্রিনে দেখা যাবে, তা পরিবর্তন করা যায়। আইফোনে সেটিংস থেকে নোটিফিকেশনের প্রদর্শন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘কাউন্ট’ নির্বাচন করলে লক স্ক্রিনে প্রতিটি নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তালিকার বদলে শুধু মোট সংখ্যাটি দেখা যাবে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও লক স্ক্রিনে নোটিফিকেশন দেখানোর ধরন পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে, যদিও ফোনভেদে সেটিংসের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
তৃতীয়ত, নোটিফিকেশন শিডিউল করা যেতে পারে। আইফোনের ‘Scheduled Summary’ চালু করে নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন নির্দিষ্ট সময়ে একসঙ্গে পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। এতে সারাদিনে বারবার নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ নষ্ট করার প্রবণতা কমে।
চতুর্থত, কাজ, ঘুম বা গাড়ি চালানোর মতো সময়ের জন্য আলাদা ‘Focus Mode’ বা ‘Do Not Disturb’ ব্যবহার করা যায়। এতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা অ্যাপের নোটিফিকেশন চালু রেখে বাকি সব অ্যালার্ট নীরব করা সম্ভব। অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে।
পঞ্চমত, নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন পুরোপুরি বন্ধ করা যায়। আইফোনে সেটিংসের নোটিফিকেশন অপশন থেকে এবং অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ নোটিফিকেশন সেটিংস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ষষ্ঠত, সব নোটিফিকেশন একসঙ্গে পরিবর্তন না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে সাইলেন্ট করা যেতে পারে। আইফোনে কোনো নোটিফিকেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মিউট করার সুযোগ রয়েছে। গুগল পিক্সেলে ‘Notification Cooldown’ সুবিধা অল্প সময়ে অতিরিক্ত নোটিফিকেশন এলে সেগুলোর শব্দ কমিয়ে দিতে পারে।
তাই সব নোটিফিকেশন বন্ধ না করেও প্রয়োজনীয় অ্যালার্টগুলো রেখে অপ্রয়োজনীয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে ফোন ব্যবহারের সময় যেমন কম বিরক্তি তৈরি হবে, তেমনি কাজ ও বিশ্রামের সময় মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি