প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৩ পিএম

গৃহকর্মী মায়ের ছেলে মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এখন সিভিল জজ হওয়ার পথে। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সারাদেশে চতুর্থ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষার্থী। প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়েই এমন সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি।
হানিফের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার বাবা মো. কালু মিয়া রিকশা চালান। মা শেফালী বেগম অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। পরিবারের বড় দুই বোন পোশাক কারখানায় কাজ করেছেন। ছোট ভাইও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যুক্ত হয়ে ভাইয়ের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।
অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন হানিফ। ২০১৮ সালে করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২০ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ৪৮তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী এলএলবি পরীক্ষায় ৩.৬২ সিজিপিএ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিভাগে এলএলএমের শেষ বর্ষে পড়ছেন।
বিজেএসের ফল প্রকাশের দিনও ছিল তার জন্য আবেগঘন। রোজা রেখে একা ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ফল প্রকাশের পর নিজের রোল নম্বর প্রথম সারিতে দেখতে পান। চতুর্থ স্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। আনন্দে কেঁদেছেন পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরাও।
হানিফের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষক থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সিনিয়ররা তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। বিশেষ করে বিজেএসের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বই, নোট, পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করেছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা।
হানিফ বলেন, জীবনে যত বাধাই আসুক, স্বপ্ন থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়। সততা, আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে দারিদ্র্য কোনো মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না।
তার এই সাফল্যে পরিবার ও গ্রামের মানুষও গর্বিত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও হানিফ সততা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি