
ইউরোপিয়ান ফুটবলে একসময় প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন লিওনেল মেসি ও রবার্ট লেভানডভস্কি। সময়ের সঙ্গে দুজনের ঠিকানা বদলেছে। এখন দুজনই খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। বৃহস্পতিবার আবারও মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। মেসি-লেভানডভস্কির লড়াই ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ছিল বাড়তি উত্তেজনা।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে শিকাগোর সোলজার ফিল্ডে ইন্টার মায়ামি ও শিকাগো ফায়ারের ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ৬৩ হাজার ৯৪ জন দর্শক। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে গত মৌসুমে তৈরি হওয়া সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ডও এদিন ভেঙে যায়।
তবে ম্যাচের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কাউকেই পুরোপুরি হতাশ করেনি। ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ম্যাচটি। মেসি ও লেভানডভস্কি দুজনই গোলের সঙ্গে সরাসরি অবদান রেখেছেন।
শুরুতেই লেভানডভস্কির গোল
শিকাগো ফায়ারের ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ১০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন পোলিশ তারকা রবার্ট লেভানডভস্কি।
প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় শিকাগো ফায়ার।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। তার গোলে সমতায় ফেরে মায়ামি।
এই গোলে মেসির চলতি মৌসুমের অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ১৮টি গোল করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
নতুন রেকর্ড মেসির
ক্যাসেমিরোর গোলে সহায়তার মাধ্যমে এমএলএসে নতুন একটি কীর্তি গড়েছেন মেসি। লিগটির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি আলাদা মৌসুমে ৩০টির বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত এই সাফল্যের পরও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি মেসি।
দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন শিকাগোর গোলরক্ষক
ম্যাচের শেষদিকে জয়ের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল ইন্টার মায়ামি। কিন্তু প্রতিবারই মায়ামির আক্রমণ আটকে দেন শিকাগো ফায়ারের গোলরক্ষক ক্রিস ব্র্যাডি।
পুরো ম্যাচে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন ব্র্যাডি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মায়ামি।
ম্যাচ শেষে শিকাগোর গোলরক্ষককে কৃতিত্ব দেন মায়ামির কোচ গিলের্মো হয়োস। তিনি বলেন, আক্রমণভাগ নিয়ে তার দলের কোনো সমস্যা ছিল না; ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক।
হয়োস আরও জানান, মায়ামি বিভিন্ন দিক থেকে সুযোগ তৈরি করেছিল এবং খেলোয়াড়রা অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
শীর্ষস্থান থেকে আরও পিছিয়ে মায়ামি
এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল এসসির চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে ইন্টার মায়ামি।
২৪ ম্যাচে ন্যাশভিলের সংগ্রহ ৫৩ পয়েন্ট। একই সংখ্যক ম্যাচে মায়ামির পয়েন্ট ৪৪।
মায়ামির ম্যাচের আগে টরন্টো এফসির কাছে ন্যাশভিল হেরে যাওয়ায় ব্যবধান কমানোর বড় সুযোগ পেয়েছিল মেসির দল। কিন্তু ড্র করে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচ মেসি-নির্ভর মায়ামির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
কঠিন সময়েও বড় স্বপ্ন মায়ামির
আগস্টের শুরু থেকে ইন্টার মায়ামির সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। গত সাত ম্যাচে দলটি জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। বাকি ছয় ম্যাচের মধ্যে দুটি ড্র এবং চারটিতে হার রয়েছে।
এরপরও বড় লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি মায়ামি। ২০১১-১২ মৌসুমের লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুই মৌসুম এমএলএস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা।
তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে সামনের ম্যাচগুলোতে মেসি ও সতীর্থদের আরও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি