
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ইতিহাস, আবেগ আর নতুন কিংবদন্তি জন্ম নেওয়ার মঞ্চ। আর এবার সেই মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি-আর্জেন্টিনা ও স্পেন। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। গত মার্চে ফিনালিসিমা না হওয়ায় যে লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল ফুটবল বিশ্ব, সেটিই এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে বাস্তব হতে যাচ্ছে।
ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর ইংল্যান্ডকে বিদায় করে শিরোপা লড়াইয়ে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ-প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছেন ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকা, লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইয়ামাল কি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়বেন? নাকি মেসি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নিজের কিংবদন্তিকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন? উত্তর মিলবে ফাইনালের রাতেই।
আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে দুই দল এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। যেখানে দু'দলই জিতেছে ৬টি করে ম্যাচ, আর বাকি দুটি হয়েছে ড্র। অর্থাৎ পরিসংখ্যান বলছে-লড়াইটা হবে সমানে সমান।
তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের দেখা হয়েছিল মাত্র একবার। সেটিও আজ থেকে প্রায় ছয় দশক আগে, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। লুইস আর্তিমে করেছিলেন জোড়া গোল, আর স্পেনের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন পিরি।
মজার বিষয় হলো, সেই ম্যাচ যখন হয়েছিল, তখন বর্তমান আর্জেন্টিনা ও স্পেন দলে থাকা একজন খেলোয়াড়েরও জন্ম হয়নি। এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও তখন পৃথিবীতে আসেননি। আর স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।
দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৮ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেবার ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছিল স্পেন। তখনও স্কালোনি কোচ হননি, আর আর্জেন্টিনার দায়িত্বে ছিলেন হোর্হে সাম্পাওলি।
তবে সেই ম্যাচের পর বদলে গেছে অনেক কিছু। আর্জেন্টিনা জিতেছে একটি বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। অন্যদিকে স্পেন নিজেদের ঘরে তুলেছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। দুই দলই এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তি।
সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তাই এই ফাইনাল শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়-এটি দুই মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই, দুই প্রজন্মের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আর ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার অপেক্ষা।