প্রকাশ: বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫, ২:৪৬ পিএম

১২৭ বছরের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮–এ পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন সংশোধনীতে মুঠোফোন কল ও এসএমএসের মাধ্যমে সমন জারির বিধান এবং মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলায় বাধ্যতামূলক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন বিধানে গ্রেপ্তার, তদন্ত, জামিন, বিচার, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ও সাক্ষীর সুরক্ষায় এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখন থেকে গ্রেপ্তারকারীকে পরিচয় জানানো ও কারণ স্পষ্টভাবে জানানো বাধ্যতামূলক। গ্রেপ্তারের তথ্য তাৎক্ষণিক থানায় নথিভুক্ত করতে হবে এবং জব্দ তালিকার কপি পরিবারের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। ৫৪ ধারা কেবল প্রতিরোধমূলক আটকের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
তদন্ত শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কর্মদিবস। যৌক্তিক কারণে সময় বাড়ানো যাবে, তবে বিলম্বের কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে। হেফাজতের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন, এর বেশি হলে বিচারিক হেফাজত দিতে হবে। নির্যাতনের অভিযোগ এলে ম্যাজিস্ট্রেট বাধ্যতামূলক মেডিকেল পরীক্ষা করাবেন।
বিচারে গতি আনতে সংক্ষিপ্ত বিচারের আর্থিক সীমা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। বেআইনি সমাবেশসহ কয়েকটি অপরাধ এখন আপসযোগ্য, এবং আপসের চুক্তি নথিভুক্ত করে সরাসরি বাস্তবায়নের ক্ষমতা আদালতের হাতে থাকবে।
জামিনপ্রাপ্ত আসামির ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির সুযোগ মিলবে। আসামি অনুপস্থিত থাকলেও আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন। সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় আদালতকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর জখম সংক্রান্ত ধারা ৩২৫ এখন জামিনঅযোগ্য করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ