প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১২:২৫ পিএম

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই আবারও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮২ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে একসঙ্গে নিহত হয়েছেন ১৫ জন। তারা শিশুখাদ্য সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জন শিশু এবং ৪ জন নারী। এ হামলায় আরও আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন, যাদের মধ্যে ১৯ জন শিশু।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন বাঁচার আশায় সাহায্যের লাইনে দাঁড়ায়, তখন তাদের হত্যা করা একেবারেই অমানবিক।’
তিনি আরও জানান, গাজায় মাসের পর মাস পর্যাপ্ত সাহায্য পৌঁছাচ্ছে না। ফলে শিশুরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দিন দিন বেড়ে চলেছে।
রাসেল ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে এই হামলার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেন।
এদিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে এই হামলাকে গণহত্যার ধারাবাহিক অংশ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, ‘ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে স্কুল, শরণার্থী শিবির, রাস্তা ও ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করছে। এটি জাতিগত নিধনের অংশ।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৬২ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫৬ জন।
এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে রাফাহ থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার ইসরাইলি পরিকল্পনা নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম