প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫, ১২:৩০ পিএম

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ৯ জেলে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে টানা চার দিন লড়াই করে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাদের তিন সহযাত্রী।
গত শনিবার (৫ জুলাই) গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন ১২ জেলে। তারা সবাই ‘এফবি সাইকূল’ নামের একটি মাছধরার ট্রলারে ছিলেন। পরদিন ৬ জুলাই সকালবেলা পায়রা বন্দরের শেষ বয়ার কাছে ভয়াবহ ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ট্রলারে থাকা সবাই।
চার দিন পর, বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সোনারচরের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় ৯ জন জেলেকে সাগরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় একটি মাছধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, কবির হোসেন (৫২), এবাদত (৩৬), আল আমিন সিকদার (২৮), জাহিদ (২৭), রাসেল (২৪), ইব্রাহিম খান (৪০), মুনসুর (২৮), শাহ আলম (৬২) ও নূরুল হক (৪৫)। তারা সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া জেলে নূরুল হক বলেন, ‘ভোরের দিকে হঠাৎ ট্রলারটি উল্টে যায়। আমরা সবাই রিং বয়া ও ফ্লুট আঁকড়ে ধরে সাগরে ভেসে থাকতে থাকি। তবে প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে তিনজন আমাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায়। বাকি ৯ জন একসঙ্গে থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাই। টানা চার দিন তারা খোলা সমুদ্রে খাবার, পানি ও বিশ্রাম ছাড়া দিন কাটান। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে লবণ পানি পান করে বেঁচে ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত সোনারচরের উপকূল ঘেঁষা এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় এক মাছধরার ট্রলার তাদের উদ্ধার করে।’
এদিকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন- খবির আলী মিয়া, সোহাগ ও গোপাল মিস্ত্রী। তাদের খোঁজে অভিযান চলছে।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া সবাইকে চরমোন্তাজে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ট্রলার মালিককে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। নিখোঁজদের সম্পর্কে কিছু তথ্য মিলেছে বলে শুনছি, তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ