প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম

মোংলা ইপিজেডের চাকরির ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ব মাহিন্দ্রা ও অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে কাকলি বেগম (২৮) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ৬ থেকে ৭ জন নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাকলি বেগম বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং মোংলা পৌর শহরের শাহজালাল পাড়া (মনপুরা) এলাকায় স্বামী শাহিনসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি মোংলা ইপিজেডের একটি কোম্পানিতে নারী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামীও একই ইপিজেডের একজন শ্রমিক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোংলা ইপিজেডের শ্রমিকদের নিয়ে একটি মাহিন্দ্রা বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসছিল। পথিমধ্যে স্থায়ী বন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোভ্যানের সাথে মাহিন্দ্রাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাহিন্দ্রাটি উল্টে গিয়ে তাতে থাকা ইপিজেড শ্রমিকরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তঃসত্ত্বা নারী শ্রমিক কাকলি বেগম নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন আরও ৬-৭ জন নারী শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় কাকলি বেগমকে উদ্ধার করে মোংলা বন্দর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোংলা বাসস্ট্যান্ড মাহিন্দ্রা-ইজিবাইক সমিতির সভাপতি সাব্বির মাহমুদ মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইপিজেড ছুটির পর শ্রমিক বহনকারী মাহিন্দ্রার সাথে অটোভ্যানের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে মোংলা পৌর যুবদল নেতা বাপ্পা রাজ বলেন,সড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকরা কোনো ধরনের নিয়ম ও গতিসীমা না মেনে এবং দ্রুত যাত্রী নামিয়ে পুনরায় ভাড়ার জন্য প্রতিযোগিতা করেন। এ ধরনের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রাণ হারাতে হয় অনেক যাত্রীদের । চালকদের নিয়ম মেনে সড়কে গাড়ি চালানো উচিত।
অন্যদিকে মাঝি-মাল্লা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন, পরিবহন চালকদের খামখেয়ালিপনা ও অতিরিক্ত গতির কারণেই দুরঘটনা ঘটে।সড়কে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি না থাকায় চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এ ধরনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ এবং দোষী চালকদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছে। নিহতের মরদেহ ও ঘটনার বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি