প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে রাজধানী প্যারিসের মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। এদিকে, গত প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডার্ম এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আগামী শনিবার দেশজুড়ে আরও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ২০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। সরকার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে এবং অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ৩ হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতির দুই-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, আন্দোলন এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কিছু এলাকায় এটি ‘নগরকেন্দ্রিক সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। তিনি বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ সময় ক্লাস এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ কর্মসূচি চলছে। জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় লিওঁ প্রশাসন একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। এদিকে, আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, তা নিয়ে এখন চাপে রয়েছে ফরাসি সরকার।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি