প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম

নিজের কেনা কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি অন্যের নামে রেকর্ড হলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে ভুলের ধরন, জমির মালিকানার প্রমাণ এবং খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তার ওপর। জরিপের ভুল, নামজারির জটিলতা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জমি অন্যের নামে রেকর্ড হওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ আলাদা হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যায় প্রথমে নিবন্ধিত দলিল, আগের ও বর্তমান খতিয়ান, মৌজার নাম, দাগ ও খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং নামজারির নথি যাচাই করতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়া হলে ওয়ারিশ সনদ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বণ্টননামাও প্রয়োজন হতে পারে। নামের বানান বা হিসাবের মতো সাধারণ ভুল হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনের আবেদন করা যায়। অন্যদিকে, চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপের রেকর্ড নিয়ে বিরোধ হলে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৪৫ক ধারার অধীনে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যের নামে নামজারি হলে সংশ্লিষ্ট নামজারি মামলার আদেশ ও নথি সংগ্রহ করে কোন তথ্যের ভিত্তিতে তা করা হয়েছে, তা যাচাই করা জরুরি। জাল দলিল বা প্রতারণার ঘটনা থাকলে বিরোধের ধরন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতসহ উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাইতে হতে পারে। শুধু ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ বা জমির দখল সব ক্ষেত্রে মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তাই প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে ভূমি অফিস বা ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া এবং প্রযোজ্য আইনি সময়সীমার মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জমির খতিয়ান, নামজারি ও রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্যের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা পোর্টাল, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি