প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ঢাকা-রিয়াদ কূটনৈতিক যোগাযোগের ঘাটতি সামনে এসেছে। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও তাঁদের সাজা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আগে জানত না জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট। এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারাবন্দি ও আটক বাংলাদেশিদের তালিকায় ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ হিসেবে উল্লেখ থাকা আরও ২০ জনের সাজা ও মামলার বিস্তারিত তথ্য নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা *দ্য ডেইলি স্টার*কে জানান, সেপ্টেম্বরে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশি বন্দি ও আটকের তালিকা দেয়। সেখানে বশির ও সুইটিসহ আরও ২০ জনের নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও সাজার বিস্তারিত ছিল না। এ বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা আঞ্চলিক শাখায় চিঠি পাঠিয়ে ২২ বাংলাদেশির মামলার রায় ও দণ্ডের তথ্য চেয়েছে কনস্যুলেট। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন হত্যা, পাঁচজন মাদকপাচার এবং পাঁচজন ব্যক্তিগত অধিকার বা পাওনাসংক্রান্ত মামলায় বিচারাধীন বা দণ্ডপ্রাপ্ত। বাকিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন, সাইবার অপরাধ ও ব্যভিচারের অভিযোগ রয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, বিদেশে আটক বা দণ্ডপ্রাপ্ত নাগরিকদের বিষয়ে কনস্যুলার যোগাযোগের বাধ্যবাধকতা আন্তর্জাতিক আইনেই নির্ধারিত রয়েছে। প্রবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আইনি সহায়তার জন্য তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে কনস্যুলেট পৃথক চিঠিতে সাজা শেষ হওয়া বন্দিদের মুক্তি ও দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণকারী বন্দিদের ক্ষমা এবং বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়েছে। ইউরোপভিত্তিক ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সৌদি আরবে অন্তত ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে আরও একজনের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবরের দুই ঘটনাসহ এ সংখ্যা অন্তত ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি