প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পিএম

দেশে সাধারণ ধারার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমলেও মাদ্রাসায় বাড়ছে। শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দাখিল থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ৪৩ হাজারের বেশি। একই সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখ আট হাজারের বেশি। বিপরীতে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলেও শিক্ষার্থী বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের মাদ্রাসা ছিল ৯ হাজার ২৬৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৯৬টিতে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ ৯৬ হাজার থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৪০ হাজারের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে, জুনিয়র স্কুলসহ সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৯ হাজার ১১৭ থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ২১১টি হলেও শিক্ষার্থী ৭৮ লাখ ৪৭ হাজারের বেশি থেকে কমে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজারের কিছু বেশি হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমের ১৪৩টি স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়েছে ৫৯৫ জন। তবে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মাদ্রাসার এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদ্রাসায় বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার সুযোগ, ধর্মীয় আগ্রহ এবং অর্থনৈতিক চাপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমা ও মাদ্রাসায় বাড়ার প্রকৃত কারণ প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশীদ মনে করেন, মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমার পেছনে করোনার পর শিখন ঘাটতি, শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন। শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়া-কমার পাশাপাশি শিক্ষার মান, শিক্ষকসংকট, ঝরে পড়ার হার এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিও মূল্যায়ন করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি