প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৩ পিএম

খুলনায় মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলি এবং অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ও পুরোনো চরমপন্থি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নগরী ও আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিক গুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগরে ৩৩টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩১টির রহস্য উদ্ঘাটন করে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ঘাটিত হত্যাকাণ্ডের ১১টি মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক। একই সময়ে মহানগরে ৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩৩টি গুলি ও তিনটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা জেলায় হত্যাকাণ্ডের ৯৮টি মামলার মধ্যে ৭৪টির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময়ে জেলা পুলিশের অভিযানে ৫৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
অপরাধে কিশোরদের ব্যবহার, মাদক কারবারের অর্থে সন্ত্রাসী তৎপরতা জোরদার এবং আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক প্রতিনিধিরা। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাং দমনে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং অস্ত্রের উৎস ও সরবরাহের পথ শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীদের পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহকারী ও মজুতদারদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি। ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটন, অবৈধ অস্ত্রের জোগান বন্ধ এবং ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি