প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়লেও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নেওয়া সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ২০১৯ সালে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে ১১১টি সুপারিশ দিয়েছিল। তবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের বিশ্রামের অভাব এবং সড়কের নকশাগত ত্রুটির মতো সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪ হাজার ২৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ১৫৭ জন। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯১ জন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষভাগ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন প্রণয়ন কিংবা জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। প্রয়োজন আইনের কার্যকর প্রয়োগ, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন। সরকার ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ধারাবাহিক নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত না হলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি