প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১ ও লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে নির্মাণব্যয় ও ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালে প্রকল্প দুটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি সংশোধনের পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। এদিকে, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণের সুদের হার ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। নতুন সুদের হার কার্যকর হওয়ায় প্রকল্প দুটিতে অতিরিক্ত ৬৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত হিসাবে মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা, যা প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। এ প্রকল্পে জাইকার ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, মেট্রোরেল লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং জাইকার ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। দুই প্রকল্পেই ঋণের বড় অংশ জাইকার কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির ঋণের সুদের হার সাধারণত ছয় মাস পরপর পুনর্নির্ধারণ করা হয়, ফলে নির্মাণকালীন সময়ে সুদ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঋণের সুদের হার না বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাইকাকে অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, ঋণচুক্তির আগে কিস্তি পরিশোধের সময় ও প্রকল্প থেকে আয় আসার সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি। সময়মতো মানসম্মত নির্মাণকাজ শেষ করে প্রত্যাশিত সেবা ও আয় নিশ্চিত করা না গেলে বড় ঋণ এবং বাড়তি সুদ দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে পারে। এদিকে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে কম সুদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমছে এবং বাজারভিত্তিক ঋণের ব্যয় বাড়ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি