
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হননি। একই সময়ে রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে ভবনটিতে সীমিত পরিসরে আগুন লাগে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভবনটির একটি অফিস টাওয়ারের ওপরের তিনটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সানায় হামলার পর পাল্টা হুমকি
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনার আশপাশ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে ওই স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া যায়।
হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, সানায় হামলা চালানো হলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশে অবস্থানরত কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় হুতিরা। গোষ্ঠীটি এসব স্থাপনাকে তাদের জন্য ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ বলে ঘোষণা করে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলাটির দায় নিয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত, আহত ৪
এদিকে, সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া দুটি হুতি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে। এতে চারজন আহত হন। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ১৫টি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। ধাহরানেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়েছে বলে জানিয়েছে জোট।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
গত কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরবর্তী আরেকটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হুতিরা ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানের বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, ইয়েমেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপথ ও জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি