প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা এবং বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবি তুলে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে মোদি সরকার ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অবস্থান দেশটির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অনীহা নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে।
দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রটোকল ও শিষ্টাচারের বিষয়টি সামনে এনেছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রতিনিধি পাঠানোসহ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদকের মতে, এ ধরনের অবস্থান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিরোধীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলের প্রধান ও বিরোধী দলনেতাসহ প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য যখন রাস্তায় অবস্থান করছিলেন, তখন নির্বাচন কমিশন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিল। এ ঘটনাকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়াও প্রতিবেদনে সমালোচনার মুখে পড়েছে। লেখাটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মুসলিম, নারী ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কিছু সমালোচকের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি শুধু নির্বাচনি হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ভোটার তালিকা সংশোধনের সরকারি তথ্য, বাদ পড়া ভোটারের প্রকৃত সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটারদের অধিকার সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক। এ পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার দাবির ভিত্তি ও পরিসংখ্যান যাচাই করা জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি