প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম

মঙ্গল গ্রহে বিশাল আকৃতির এক অদ্ভুত মেঘ কীভাবে তৈরি হয়, আবার দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায়—দীর্ঘদিনের সেই রহস্যের ব্যাখ্যা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় উঠে এসেছে, গ্রহটির পাতলা বায়ুমণ্ডল ও বিশেষ ভৌত প্রক্রিয়া এই অস্বাভাবিক মেঘ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্রান্সের সোরবন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণাটি সম্প্রতি ‘নেচার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে মঙ্গলের প্রায় ২০ কিলোমিটার উঁচু আর্সিয়া মন্স আগ্নেয়গিরির পাশে এই মেঘ শনাক্ত করা হয়। আর্সিয়া মন্স ইলংগেটেড ক্লাউড বা এএমইসি নামে পরিচিত মেঘটি মঙ্গলের বসন্ত ও শরৎকালে প্রায় প্রতিদিন সকালে তৈরি হয়। পরে এটি দ্রুত প্রায় ১ হাজার ১২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে মিলিয়ে যায়।
গবেষক দলের সদস্য জর্জ হার্নান্দেজ-বের্নাল জানান, কম্পিউটার মডেলিংয়ে বিশেষ একটি ভৌত প্রক্রিয়া যুক্ত করার পর এএমইসি মেঘের বৈশিষ্ট্য পুনরায় তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
পৃথিবীতে সাধারণত বাতাসে ভেসে থাকা ধূলিকণা বা অন্য ক্ষুদ্র কণার ওপর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘হেটেরোজেনিয়াস নিউক্লিয়েশন’। কিন্তু গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মঙ্গলের এই বিশেষ মেঘ তৈরিতে ভিন্ন প্রক্রিয়া কাজ করে।
ধূলিকণা ছাড়াই তৈরি হয় মেঘ
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এএমইসি মেঘ তৈরির সময় জলীয় বাষ্প কোনো মধ্যবর্তী কণার সাহায্য ছাড়াই সরাসরি বরফের ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হতে পারে। এ প্রক্রিয়ার নাম ‘হোমোজেনিয়াস নিউক্লিয়েশন’। গবেষকদের কম্পিউটার সিমুলেশনে এই প্রক্রিয়া যুক্ত করার পর মেঘটির বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।
আগ্নেয়গিরির বাতাসেই তাপমাত্রার দ্রুত পতন
আর্সিয়া মন্স আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময় শক্তিশালী বায়ুতরঙ্গ তৈরি হয়। এই তরঙ্গ আর্দ্র বাতাসকে দ্রুত কয়েক মাইল ওপরে তুলে নিয়ে যায়। ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা মাত্র ১০ মিনিটে প্রায় ৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেড়ে যায় এবং বরফ কণা তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, মেঘ তৈরির প্রক্রিয়া এবং গ্রহটির আবহাওয়ার অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বুঝতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি