হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এখন যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্কের শেষ ধাপ সম্পন্ন হয়। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার যুক্তি খণ্ডন করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।
মাহবুব-উল আলম হানিফ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হানিফ ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রসিকিউটর তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় নেতা হিসেবে তিনি অধীনস্থদের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। কুষ্টিয়ার এসপি, জেলা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। এসব কথোপকথনের তথ্যপ্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন। একই অবস্থানে থেকে হানিফও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্কের প্রয়োজন হয়। গত ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছিল।
গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি