প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পিএম

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভগ্নিপতি ও কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লতিফ ভূঁইয়া কামাল ওরফে হামিদ লতিফ ভূঁইয়া দাবি করেছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; বরং ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি হয়। শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য দেন লতিফ ভূঁইয়া।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আসাদুজ্জামান খান কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আর আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বরুড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, তখন তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করি। তার সঙ্গে যদি আমার ভালো সম্পর্ক থাকত, তাহলে কেন তার বাসায় যেতাম না।’
লতিফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর ভাটারা এলাকায় শামিম মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এ আবেদন করা হয়। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
লতিফ ভূঁইয়ার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহাগ আদালতে বলেন, তার মক্কেল এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নতুন করে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তার দাবি, ২০২৪ সালের ঘটনার মামলা হয়েছে ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালে এসে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার তদন্তে লতিফ ভূঁইয়ার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারা থানার একশ ফুট এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো হয়। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধারের সময় শামিম মিয়ার বুক, ঠোঁট, গাল ও মাথায় গুলি লাগে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি ভাটারা থানায় মামলা করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি