প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম আপডেট: ২৮.০৯.২০২৬ ৫:৫৩ PM

কুমিল্লার হোমনায় চাঞ্চল্যকর ৩ খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ৮ মাস পর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার মনিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হেফাজতে নেওয়া চারজন হলেন—মনিপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে শহীদুল্লাহ, তার দুই ছেলে সাঈদ ও তামজিদ এবং নিহত জুনায়েদের মা ও সাত্তারের স্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩২), তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং ভাতিজা জুবায়ের (৫)-কে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হোমনা থানায় মামলা করেন।
এর পর থেকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তে নামে। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ডিবি পুলিশের একটি দল মনিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে হেফাজতে নেয়। তারা সবাই নিহতের আত্মীয় বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে কিংবা তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি ডিবি কার্যালয় থেকে।
তবে চারজনকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে দীর্ঘ ৮ মাস পর নতুন করে ৪ জনকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ