প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ AM

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, বর্তমানে রাশিয়ায় ৮ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে এবং আরও সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়ায় পাঠানোর জন্য বাছাই করা হচ্ছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ায় উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন নিয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সক্রিয় রুশ সেনাসদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেনশিয়াল আদেশ অনুযায়ী, সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজার করা হবে। এর ফলে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩০ জনে। গত আগস্টেও সেনাসংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন। নতুন সিদ্ধান্তে সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা আরও ১৫ হাজার ৫০০ জন বাড়বে।
গত বছর পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়েছে। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি আবাসিক ভবনের আঙিনায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি অনাবাসিক ভবনেও আগুন লাগে। এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনজুড়ে রুশ ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। সোমবার ফ্রান্স সফর শেষে রোমে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়া, ইউক্রেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের আলোচনায় বসে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা উচিত।
অন্যদিকে ইউরোপে রাশিয়ার কথিত নাশকতামূলক তৎপরতা ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে দেশগুলোকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি জানিয়েছেন, বিদেশি মিত্রদের কাছ থেকে সহায়তা পেতে বিলম্ব হওয়ায় কিছু ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি