
১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী পারভেজ রহমান। প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই সারাদেশের মেধাক্রমে ১৩তম স্থান অর্জন করেছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফলাফলে এই সাফল্য পান পারভেজ। তার এ অর্জনে পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানতে চাইলে পারভেজ রহমান স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া—তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন। রেজাল্ট দেখার সেই বিশেষ মুহূর্তটির কথা যদি বলি, সত্যি বলতে ভয়ে আমার হাত কাঁপছিল। তবুও ধীরে ধীরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তালিকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। দ্বিতীয় লাইনেই যখন নিজের রোল নম্বরটা দেখতে পাই, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
সাফল্যের পেছনে বাবার অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। পারভেজ বলেন, ‘বাবা আমাদের জন্য সারাজীবন অনেক পরিশ্রম করেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও এখনো নিয়মিত অফিস করেন। আজ বাবার মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
পারভেজের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কাছমেরতাইর গ্রামে। তার বাবা মো. ইমান আলী একজন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এবং মা পারভীন বেগম গৃহিণী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে পারভেজ বড়দের একজন। তার এক ভাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং ছোট বোন সামনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
নিজের সাফল্যের খবর পরিবারের সদস্যদের জানানোর পরের মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে পারভেজ বলেন, ‘আমার সাফল্যের সংবাদ শোনার পর বাবা আবেগে কান্না করে দিয়েছিলেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত সবাই খবরটি শুনে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। মূলত বাবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই এতদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি। পুরো জার্নিতে বাবার অনুপ্রেরণাই আমাকে পড়াশোনায় একাগ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।’
বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় নিয়মিত পড়াশোনার রুটিন ধরে রাখাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন পারভেজ। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হয়েছে।
তবে প্রস্তুতির মাঝপথে মারাত্মক মাইগ্রেনের সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। এতে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়লেও লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।
পারভেজ বলেন, ‘প্রস্তুতির সময়টিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একটি নির্দিষ্ট রুটিন নিয়মিত মেনে চলা। তাও আলহামদুলিল্লাহ, আমি চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করতে হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তুতির মাঝপথে আমি হঠাৎ মারাত্মক মাইগ্রেন ব্যথায় আক্রান্ত হই। তখন একই ধারায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তবুও লক্ষ্য স্থির রেখে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিশ্রম করে গেছি, যা আজ আমাকে এই সফলতা এনে দিয়েছে।’
পারভেজ রহমান ২০১৮ সালে জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করে ‘ফার্স্ট ক্লাস থার্ড’ হয়েছেন।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আইন বিষয়ে এলএলএম (মাস্টার্স) করছেন পারভেজ রহমান। প্রথমবার বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই ১৩তম স্থান অর্জনের মাধ্যমে বিচার বিভাগে ক্যারিয়ার শুরুর পথে এগিয়ে গেলেন এই তরুণ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি