বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
মানুষ ও প্রাণীর নীরব বন্ধনের গল্প ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’-এ      শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, দায়িত্বশীল হতে হবে: ডেপুটি স্পিকার      অস্থিরতার মধ্যেই পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন      জাতিসংঘের উন্নয়ন সহায়তার প্রশংসা স্বপনের      ১৩তম থেকে ১৮তম বিজেএস, পাঁচবারই প্রথম রাবির শিক্ষার্থী      ২০২৮ থেকে বদলে যাবে শিক্ষার কারিকুলাম      কেটি পেরি গাইবেন দুবাইয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে      টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান      সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় সমন্বয় করবে সরকার      কোমল রানীকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগচা রাজার মণ্ডপে গোবিন্দ      পদোন্নতির জন্য জ্যেষ্ঠতা তালিকা করবে নার্সিং অধিদপ্তর      বিচ্ছেদে বেশি কষ্ট পান নারী না পুরুষ?      
মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশু নিপীড়নের এআই ছবি, ১০ মাসে শনাক্ত ৩৩২ বিজ্ঞাপন
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করে শত শত বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ উঠেছে মেটার বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি) জানিয়েছে, গত ১০ মাসে মেটার প্ল্যাটফর্ম দুটিতে এমন ৩৩২টি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করেছে তারা। এর মধ্যে ভারতের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রচারিত হয়েছে অন্তত ৮৪টি বিজ্ঞাপন।

টিটিপির তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত করা ৩৩২টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ২৭৪টি শুধু চলতি আগস্ট মাসেই প্রচারিত হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৭৮টি তখনো চলছিল, যখন দেশটির সরকার মেটাকে শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত সব ধরনের কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

অর্থাৎ, সরকারি নির্দেশ জারির প্রায় দুই মাস পরও ভারতে মেটার প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারিত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

এর আগে বিবিসির এক অনুসন্ধানেও ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত কনটেন্টের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি উঠে আসে। নতুন এই গবেষণায় বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে সামনে এসেছে।

টিটিপির দাবি, শনাক্ত করা অনেক বিজ্ঞাপনে বাস্তব শিশুদের ছবি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ইউরোপের একটি রাজপরিবারের এক সদস্যের ছবিও একইভাবে ব্যবহারের তথ্য জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

ভারতে শনাক্ত হওয়া ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৫৫টি বিজ্ঞাপন টিটিপি মেটার নিজস্ব রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জানায়। তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মধ্যে ৪৩টি বিজ্ঞাপন মেটার বিজ্ঞাপন নীতিমালা লঙ্ঘন করছে না বলে জানানো হয়। অন্যদিকে ১১টি বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে টিটিপিকে জানায় মেটা।

তবে টিটিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেটাকে বিজ্ঞাপনগুলোর বিষয়ে জানানোর পরও নতুন করে অন্তত ১৭টি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বিজ্ঞাপন ভারতে গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গবেষণা অনুযায়ী, শনাক্ত করা বেশিরভাগ বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন এআই ছবি ও ভিডিও তৈরির অ্যাপের দিকে নিয়ে যেত। এসব অ্যাপের বড় একটি অংশ চীনা ডেভেলপারদের তৈরি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেটা অবশ্য শিশু নিপীড়ন বা এ ধরনের কোনো কনটেন্ট তারা অনুমোদন করে না বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে দ্রুত সরিয়ে নিতে তাদের নজরদারি ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা নিয়মিত উন্নত করা হচ্ছে।

মেটার ভাষ্য, শিশু নিপীড়নের কোনো সম্ভাব্য ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী বিষয়টি ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি)-কে জানানো হয়।

তবে ভারতের শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেনের প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু মনে করেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে রিপোর্ট করাই যথেষ্ট নয়। তাঁর দাবি, ভারতের আইন অনুযায়ী শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত কনটেন্ট প্রচারকারীদের শনাক্ত করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও তথ্য দেওয়া উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর।

এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নের কনটেন্ট প্রচারকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিষয়ে বাধ্যতামূলকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হোক।

বিবিসির অনুসন্ধানের পর ভারতের জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত কনটেন্টের সঙ্গে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন করে অনলাইন নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন যাচাইব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ক্ষতিকর ও বেআইনি কনটেন্ট শনাক্তের পরও কীভাবে তা বিজ্ঞাপন হিসেবে আবার প্রচারিত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  মেটা শিশু_অধিকার সাইবার_নিরাপত্তা  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close