প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের রায়ে তিনি গভীর কষ্ট অনুভব করছেন।
আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমার ক্লায়েন্টদের বিরুদ্ধে রায়টি ভিন্নভাবে আসতেও পারতো, কিন্তু হয়নি। এটি আমার পক্ষে যায়নি, তাই আমি কষ্ট পাচ্ছি। এ মামলায় আপিল করার কোনো সুযোগ নেই, যতক্ষণ তারা আত্মসমর্পণ না করেন বা গ্রেপ্তার না হন।”
দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ১২টা ৪০ মিনিট থেকে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পাঠ শুরু হয়। দুই ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়ার পর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে প্রথমেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-১ অনুযায়ী উসকানি, মারণাস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং আবু সাঈদ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ-২ অনুযায়ী চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর দায়ে হাসিনার পাশাপাশি আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল তার স্বেচ্ছায় এবং সত্য বলার কারণে নমনীয়তা দেখিয়েছে।
শেখ হাসিনার মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর ৯ কার্যদিনে প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়। মামলায় মোট পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছিল।