প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ২:৫৯ AM

জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার ও অভিনেতা জুবিন গার্গের আকস্মিক মৃত্যু ভক্তদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। প্রথমে খবরটি প্রকাশিত হয় যে তিনি স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তবে মৃত্যুসনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আসলে তিনি সাতারের সময় পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
জুবিনকে ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের সেন্ট জন’স দ্বীপ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেদিনই তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ভারতের হাইকমিশনকেও সরবরাহ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন জুবিন একটি ইয়টে এক ডজনের বেশি সঙ্গীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে নামেন, পরে তা খুলে আবার ঝাঁপ দেন। এই দুর্ঘটনার পর আসাম পুলিশ তাঁর ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা ও উৎসবের প্রধান আয়োজক শ্যামকানু মহন্তকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই দুর্ঘটনার কারণে ১৯–২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল বাতিল হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে ভারত-সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০ বছর পূর্তি এবং ‘ইন্ডিয়া-আসিয়ান ইয়ার অব ট্যুরিজম’ উদ্যাপন করার পরিকল্পনা ছিল।
১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর জন্ম নেওয়া জুবিন বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী ছিলেন। তিনি আঞ্চলিক ভাষার গানকে মূলধারায় এনেছেন এবং বাংলা, হিন্দি ও আঞ্চলিক চলচ্চিত্রের গানগুলোতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। ‘ইয়া আলী’, ‘ফিজা’, ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’, ‘গ্যাংস্টার’সহ বহু জনপ্রিয় গান ও ছবিতে তাঁর কণ্ঠ চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
জীবনের নানা বিতর্কের মধ্যেও ভক্তদের ভালোবাসা তাঁর প্রতি অটুট ছিল। আজও জুবিন গার্গের গান উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে, ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়ে গেছে। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও মানবিকতা তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতের এক অমর প্রতীক করে তুলেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ