প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম আপডেট: ১৯.০৭.২০২৫ ১২:৫৭ PM

সংগৃহীত ছবি
বছরের পর বছর ধরে অভিযাত্রীদের ফেলে যাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাবারের প্যাকেট, তাঁবু ও অন্যান্য বর্জ্যের কারণে মাউন্ট এভারেস্ট ধীরে ধীরে এক বিশাল আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এই সমস্যা সমাধানে এখন ড্রোন ব্যবহার করে আবর্জনা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ৬,৬৫ মিটার (১৯,৮৯৮ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত ক্যাম্প ওয়ান থেকে প্রায় ৭০০ মিটার নিচে অবস্থিত বেজক্যাম্পে ড্রোনের সাহায্যে আবর্জনা নামানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যেভাবে শেরপাদের দীর্ঘদিন ধরে ভারী বর্জ্য বহনের ঝুঁকি নিতে হতো, তা অনেকটাই কমে এসেছে।
সাগরমাথা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ড্রোনের মাধ্যমে ২৮০ কেজির বেশি বর্জ্য সরানো হয়েছে। এভারেস্টে এত পরিমাণ আবর্জনা জমেছে যে একে ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ আবর্জনার স্তূপ’ বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ শেরপা লাকপা নুরু, যিনি ইতিমধ্যে ১৫ বার এভারেস্টের চূড়া জয় করেছেন, তিনি বলেন, “আমরা খুবই খুশি। আমাদের যেসব বর্জ্য বয়ে আনতে হতো, তার প্রায় ৭০ শতাংশ এবার ড্রোনেই নামানো হয়েছে। ওয়ান থেকে নামার সময় যখন তাপমাত্রা বেশি থাকে, তখন আবর্জনার দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এ গন্ধের কারণে কিছু শেরপার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন ড্রোন চাই, যা আরও বেশি ওজন বহন করতে পারবে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরফ গলতে শুরু করায় বহু বছর ধরে জমে থাকা পুরোনো বর্জ্যগুলো এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। এসব আবর্জনা নিচের গ্রামগুলোতে পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি করছে, যার ফলে কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
২০১৯ সাল থেকে নেপালি সেনাবাহিনী ও শেরপারা মিলে এভারেস্ট ও আশপাশের কিছু চূড়া থেকে ১০০ টনেরও বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছেন। তবে সমস্যা এখনও প্রকট। প্রযুক্তির সহায়তায় এই পর্বতের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতি বজায় রাখার জন্য আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন।