
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বজুড়ে নুডলস একটি বহুলপ্রিয় খাবার হিসেবে স্বীকৃত। তবে এর উৎপত্তি কোথায়, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর মতভেদ। কেউ বলে, নুডলসের জন্ম মধ্যপ্রাচ্য বা মধ্য এশিয়ায়। আবার অনেক চীনা বিশ্বাস করেন, এটি চীনেই উদ্ভূত এবং ভেনিশিয়ান পর্যটক মার্কো পোলোর মাধ্যমে পশ্চিমে পৌঁছায়।
ইতালিও দাবি করে থাকে, পাস্তা আবিষ্কার তাদেরই কৃতিত্ব।
২০০০ সালের শুরুতে উত্তর চীনের এক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া একটি ৪০০০ বছর পুরনো বাটিতে থাকা হলুদ রঙের নুডলস প্রাচীন চীনে এর অস্তিত্বের শক্ত প্রমাণ দেয়। হান রাজবংশের (২০০০ বছর আগের) কিছু গ্রন্থেও নুডলসের উল্লেখ পাওয়া গেছে, যা চীনের নুডলস ইতিহাসকে আরও মজবুত করে।
পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন, জাপান ও কোরিয়ায়, নুডলস শুধু খাবার নয় বরং একটি শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। চীনে বিভিন্ন ধরণের নুডলস তৈরি হয়: মিয়ান পিয়ানো (বর্গাকার আকৃতি), দাও শাও (ছুরি দিয়ে কাটা মোটা নুডলস), মাও এর ডুও (বিড়ালের কান আকৃতির নুডলস)।
হাতে টেনে নুডলস তৈরি করা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যা প্রকৃত অর্থেই শিল্পকলা।
চীনা সংস্কৃতিতে নুডলস খাওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। চন্দ্র নববর্ষ বা জন্মদিনে নুডলস দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে খাওয়ার রীতি রয়েছে। নুডলস কেটে খাওয়া নিষেধ, কারণ বিশ্বাস করা হয় এতে জীবন ছোট হয়ে যায়।
চীনা-আমেরিকানদের জীবনে নুডলস একটি আবেগের নাম। দক্ষিণ চীনের গুয়াংজু শহর থেকে শুরু করে বোস্টনের চায়নাটাউন পর্যন্ত তাদের খাদ্যাভ্যাসে নুডলস এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাজা নুডলস, ওন্টন স্যুপ—সবই তাদের প্রিয় তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
আজকাল নুডলস তৈরি হয় নানা উপকরণ দিয়ে, গম, চাল, ভুট্টা কিংবা মুগ ডাল। এর স্বাদ, গঠন ও টেক্সচার নির্ভর করে ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রস্তুতির কৌশলের ওপর। নুডলস খাওয়ার সময় স্লার্পিং বা শব্দ করে খাওয়াও অনেক এশীয় সংস্কৃতিতে খাবার উপভোগের স্বীকৃত রীতি।
অতএব, নুডলস কেবল এক থালা খাবার নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রীতির এক সুস্বাদু সংমিশ্রণ।
সূত্র: স্প্লেনডিড স্পুন
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম