
যুক্তরাজ্য সফরে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখনো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সম্মত হননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাজ্যের নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তার অভিযোগ, এই চুরি যাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রয়েছে।
চার দিনের সরকারি সফরে লন্ডনে অবস্থান করছেন ইউনূস। তার লক্ষ্য, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
ইউনূস বলেন, স্টারমার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি, তবে সরাসরি তার সঙ্গে ইউনূসের কথা হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী যে, স্টারমার এই প্রচেষ্টায় সমর্থন দেবেন, কারণ “এগুলো চুরির টাকা।”
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, স্টারমারের ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই, যদিও এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এর আগে ইউনূসকে চিঠি দিয়ে লেবার পার্টির সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। তবে ইউনূস তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়েছেন। টিউলিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে, যাকে তিনি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ইউনূস অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের জন্য অর্থ আত্মসাতের সুযোগে পরিণত করেছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে, শেখ হাসিনার সময় প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এর বড় অংশ যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যে গেছে বলে দাবি করছেন ইউনূস।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি লন্ডনে শেখ হাসিনার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ছেলের নামে থাকা দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট অবরুদ্ধ করেছে।
ইউনূস বলেন, এই প্রচেষ্টা এখন কেবল শুরু, সামনে আরও দেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি যুক্তরাজ্যের ব্যবসা খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করছেন।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম