প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:০৯ পিএম আপডেট: ২০.০৪.২০২৫ ৫:১২ PM

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত না মেনে বাজে আচরণ করায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হন এবং পান চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট। এরপর গণমাধ্যমে আম্পায়ারদের সমালোচনা করায় আরও এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয় তার ওপর।
নিয়ম অনুযায়ী, সুপার লিগের প্রথম দুটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে না খেললেও, পরের ম্যাচেই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে মাঠে নামেন হৃদয়, এমনকি নেতৃত্বও দেন দলকে।
এই বিষয়ে বিসিবি কিংবা লিগ পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া বক্তব্যে দেখা যায় মতভেদ।
ম্যাচ রেফারি ও ডিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য নিয়ামুর রশিদ রাহুল বলেন, 'এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। আমাকে কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি যেটা শাস্তি দিয়েছিলাম এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ও চার ডিমেরিট পয়েন্ট। চার ডিমেরিট পয়েন্টে অটোমেটিক্যালি আরও দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়। কারণ চার থেকে সাত ডিমেরিটে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়। এখন বোর্ডের উচ্চ পর্যায় যদি মওকুফ করে সেটা উনাদের ব্যাপার।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এখন পর্যন্ত কোন কিছু জানি না। আমি যেটা দিয়েছি, ৫০ হাজার জরিমানা ও চারটা ডিমেরিট পয়েন্টস। চার ডিমারেট পয়েন্টের কিন্তু আরেকটা প্যারামিটার আছে। ওটা একুমিলেট ডিসিশন মানে ডিমারেট পয়েন্ট বলে আরকি। কাজেই ওইটার ওই ধারাতে দুই ম্যাচ সাসপেনশন হয়। সাসপেনশন রেখেছে। যদি এটা হয় তাহলে সিসিডিএম এর ব্যাপার।'
টেকনিক্যাল কমিটির আরেক সদস্য এনামুল হক মনি বলেন, 'মোহামেডানের খেলা যেহেতু সিসিডিএমের বা কোন বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যদি সে খেলে থাকে। তাহলে মোহামেডানের অফিসিয়ালদের জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন। টেকনিক্যাল কমিটির কাছে সে জানিয়েছিল সে অপরাধ করেছে ক্ষমা চাচ্ছে। অলরেডি তার অপরাধের একটা শাস্তি মওকুফ রেফারি তখনই করেছে (জরিমানা কমানো)। আমার কাছে তো মাফ চাওয়ার দরকার পড়ে না। তারপরে চিঠি দিয়েছিলো শাস্তি মওকুফ করার জন্য, এটা আমার হাতে নেই। এরপর কীভাবে খেলেছে আমি জানি না।'
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, চার থেকে সাত ডিমেরিট পয়েন্ট হলে দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)-এর সদস্য সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'আগে চার থেকে সাত ডিমেরিটে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকত। সেখানে এখন এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করতে পারে। এখন ম্যাচ রেফারি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল, আর ডিমেরিট দিয়েছে চারটা যাতে হয় আরেক ম্যাচ। দুইটা মিলিয়ে দুই ম্যাচ হয়। দুইটা প্যারালাল হয়ে আবার এক ম্যাচই হয়েছে। এটা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে (প্যারালাল)। কম্বিনেশন করে এক ম্যাচ করা হয়েছে। একই শাস্তি দুই দিক থেকে এসেছে। সবগুলো মিলিয়েই তো শাস্তি হয়েছে। ডিমেরিটের জন্য একটা নিষিদ্ধ, আম্পায়ারের সঙ্গে বাজে আচরণে এক ম্যাচ। দুইটা মিলিয়ে একটাই হয়েছে। এটা সিসিডিএমের সিদ্ধান্ত।'
এদিকে আম্পায়ার্স কমিটির প্রধান ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, 'সে (হৃদয়) দুটি অপরাধ করেছে। প্রথম অপরাধ মাঠে, তার জন্য ম্যাচ রেফারির কাছ থেকে শাস্তি পেয়েছে সে। সেই শাস্তি ভোগ করেছে। পরের অপরাধ হচ্ছে গণমাধ্যমে আম্পায়ারের সমালোচনা করে। এই শাস্তি হিসেবে আরেক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেটার জন্য তারা (মোহামেডান) আবেদন করেছে। বিষয়ে যেহেতু আপিলে আছে এজন্য খেলতে পারছে।'
সব মিলিয়ে, হৃদয়ের মাঠে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি। বোর্ডের ভেতরে একেকজনের ব্যাখ্যায় মিলছে একেকরকম তথ্য।
স্বদেশ প্রতিদিন/এএএম