প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলার তদন্তে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাগেরহাটের রামপাল থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে রামপাল উপজেলার শরাপপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোল্লা ইয়ামিন (৩০), তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পাইকগাছা থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলা দুটির নম্বর ২৭ ও ২৮।
এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে নিজেকে ‘সর্বহারা পার্টির’ নেতা আসলাম শিকদার পরিচয় দিয়ে তাঁর ছেলেদের জন্য অর্থ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে যেকোনো স্থান থেকে তুলে নেওয়ার এবং টাকা না দিলে রক্ত নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় মোল্লা ইয়ামিনের নাম উঠে আসে। তিনি এলাকায় কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে রামপাল থেকে ওই তিনজনকে আটক করা হয়।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, মোল্লা ইয়ামিন তাঁর মা ও স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করতেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ আরও তিনটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ফোনে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ