প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫১ AM

স্বামীর মাদক সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করায় শরীয়তপুরের ডামুড্যায় লামিয়া বৃষ্টি (১৯) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী রবিউল ছৈয়ালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রবিউলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই রবিউলের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ ছিল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে স্বামীকে বারবার অনুরোধ করতেন লামিয়া। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ করার কথা বলেন লামিয়া। অন্যথায় তাঁকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
সোমবার বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশ শেষে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলে গেলে লামিয়া ও রবিউলের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রবিউল তাঁর স্ত্রীকে পাশের বাড়ির একটি ডোবার কাছে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মরদেহ ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় প্রায়ই তাঁর মেয়েকে মারধর করতেন তিনি। এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছিল।
শাহিদা আক্তার বলেন, মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ না করায় সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে লামিয়া বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সোমবার দুই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাঁকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। সালিশ শেষে সবাই চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মেয়েকে গলা কেটে হত্যার খবর পান তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি