প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ পিএম

প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতার প্রভাবে সৃষ্ট এল নিনো এবার ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিশেষজ্ঞরা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, আকস্মিক বন্যা ও প্রচণ্ড ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ পরিস্থিতিকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিষুবরেখা-সংলগ্ন মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা প্রায় ৩ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিকে রেকর্ড পর্যায়ের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নতুন মানচিত্র ও ‘এল নিনো হিট মর্টালিটি ট্র্যাকার’ বিশ্লেষণ করে আগামী ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে কোন অঞ্চলগুলোতে প্রাণহানির ঝুঁকি বেশি, তা চিহ্নিত করতে এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, চরম দাবদাহের প্রাণঘাতী প্রভাব আগে থেকে অনুমান করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর মাধ্যমে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রাণহানি ঘটার আগেই নীতিনির্ধারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাবে তাপদাহজনিত মৃত্যুর বড় অংশ ঘটতে পারে বৈশ্বিক দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে। এর মধ্যে ভারত অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আগামী অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে তাপদাহের কারণে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ভারতে সম্ভাব্য প্রাণহানির বড় একটি অংশ ঘটতে পারে আগামী মার্চে।
তবে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে নাইজেরিয়াও বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটিতে তাপদাহজনিত কারণে প্রায় ৫৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেও চরম তাপপ্রবাহের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র গরমে প্রায় ২৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রায় ১৯ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পূর্বাভাস ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে আগাম প্রস্তুতি, তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ