| শিরোনাম: |

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে ট্রাম্পের দেওয়া যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ওবামার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেছে দুই দল। এর অংশ হিসেবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার উপকণ্ঠে মোরো শহরে বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন ওবামা।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০১৫ সালে তার প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর প্রয়োজন হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। তার ভাষ্য, মার্কিন মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে গেছে।
ওবামার মতে, এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরান কার্যত ভেটো প্রয়োগের মতো ক্ষমতা অর্জন করেছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামেও।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর দায় নিতে অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনেক আগেই সংঘাতটির সমাধান হওয়া উচিত ছিল।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে আগের তুলনায় এর সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের কারণে ইরানের ড্রোন নির্মাতারা সমস্যায় পড়েছেন। তার ভাষায়, তারা ‘এখন আর বিদ্যুৎ পাচ্ছে না’। ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি যুদ্ধের সূচনা নিয়ে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। সে সময় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। আলোচনার মধ্যেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ