প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম

চুল মসৃণ, উজ্জ্বল ও মজবুত করতে রাইস ওয়াটার বা চাল ভেজানো পানি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি চুল দ্রুত লম্বা করা ও চুল পড়া কমানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে জনপ্রিয় হলেও, এসব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে রাইস ওয়াটার চুলের মসৃণতা বাড়াতে এবং আঁচড়ানোর সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে থাকা ইনোসিটল নামের একটি উপাদান চুলের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণা হয়েছে, যদিও বাড়িতে তৈরি রাইস ওয়াটার একই উপকার দেয় কি না, তা নিশ্চিত নয়।
রাইস ওয়াটার তৈরি করতে দুই থেকে তিন টেবিল চামচ চাল ধুয়ে এক থেকে দুই কাপ পরিষ্কার পানিতে প্রায় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর পানি ছেঁকে শ্যাম্পু করার পর চুল ও মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে পারেন। শুরুতে সপ্তাহে একবার ব্যবহার করে চুলের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। সদ্য তৈরি পানি ব্যবহার করা ভালো। দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিলে তা দূষিত হতে পারে। সংরক্ষিত পানির গন্ধ, রং বা চেহারায় পরিবর্তন দেখা দিলে সেটি ফেলে দেওয়া উচিত।
তবে সবার চুলে রাইস ওয়াটার একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। এর শ্বেতসার চুলে আস্তরণ তৈরি করে চুলকে শক্ত, আঠালো বা তৈলাক্ত অনুভব করাতে পারে। সংবেদনশীল মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। গাঁজানো রাইস ওয়াটার বেশি কার্যকর—এমন দাবির পক্ষেও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। চুল সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, নিয়মিত কন্ডিশনিং করা এবং অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ এড়িয়ে চলা জরুরি। চুল অতিরিক্ত পড়লে বা পাতলা হয়ে গেলে ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি