প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ পিএম

সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর গলাচিপায় চলছে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও জমজমাট কেনাবেচা। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে ব্যবসায়ীরা বেছে নিয়েছেন অভিনব কৌশল; প্রকাশ্যে হাট-বাজার বন্ধ থাকলেও একটি ফোন কল পেলেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্রেতার পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা মাছ বিক্রি করেন না। অপরিচিত নম্বর বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। উপজেলার অন্তত ১০ থেকে ১৫টি পয়েন্টে প্রভাবশালী দালাল ও নির্দিষ্ট ক্রেতাদের মাধ্যমে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে। এমনকি নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার্থে ইলিশ ধরা বা বিক্রির স্পটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সিন্ডিকেটের। চক্রটির ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পান না।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মাঠে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাধার। সম্প্রতি চরবিশ্বাসের নোমোর স্লুইস এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে অসাধু জেলেদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ট্রলারকে ধাওয়া করার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ক্রেতা সেজে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের জেলে মো. মন্নান ও মো. মিজানকে ফোন করা হলে তাঁরা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং ইলিশের সাইজ অনুযায়ী দাম জানান। তবে সরাসরি মাছ হাতে না দিয়ে চরকাজলের একটি নির্ধারিত ওয়ার্কশপে টাকা জমা দিলে সেখানে চাহিদামতো ইলিশ পৌঁছে দেওয়ার শর্ত দেন তাঁরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিবা লঞ্চঘাট ও বড় শিবা; চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া, চরবাংলা খেয়াঘাট, চরবাংলা এবং রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী এলাকায় এই অবৈধ চক্র সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনে গলাচিপায় ৩৪টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ২৩ লাখ ৬২০ টাকা বাজারমূল্যের প্রায় ১ লাখ ৫৭৫ মেট্রিক টন অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ১২টি মামলায় ৬ জন জেলেকে সাজা প্রদান এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, মৎস্য বিভাগ ও সরকারের বিভিন্ন সমন্বিত বাহিনীর মাধ্যমে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হলেও প্রতিটি স্থানেই প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ