
উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি। অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিয়ে নাশতার অভ্যাসেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ভেরিওয়েল হেলথ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চারজন নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চার ধরনের নাশতার পরামর্শ দিয়েছেন।
১. কমলা, কম সোডিয়ামযুক্ত কটেজ চিজ ও পেস্তা বাদাম
পুষ্টিবিদ লরেন মান্যাকার এই সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছেন। কমলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। কম সোডিয়ামযুক্ত কটেজ চিজ ক্যালসিয়ামের উৎস, আর পেস্তা বাদামে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। কমলার টুকরোর সঙ্গে কটেজ চিজ ও পেস্তা বাদাম মিশিয়ে সহজেই এই নাশতা তৈরি করা যায়।
২. কলা দিয়ে তৈরি ঘরোয়া আইসক্রিম
পুষ্টিবিদ রেজিনা উইন্ডসর জানান, কলায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। হিমায়িত কলা ও ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড ব্লেন্ড করে তৈরি করা যায় ক্রিমের মতো নাশতা। চাইলে এতে মিষ্টিহীন কোকো পাউডার ও সামান্য দারুচিনি যোগ করা যায়। বাড়তি চিনি না দেওয়াই ভালো।
৩. ঘরে তৈরি পপকর্ন
পুষ্টিবিদ স্যান্ড্রা আরেভালোর মতে, অতিরিক্ত লবণ ও মাখনযুক্ত বাজারের পপকর্নের পরিবর্তে ঘরে তৈরি পপকর্ন স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ শস্য হিসেবে পপকর্নে ফাইবার রয়েছে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সামান্য তেল ব্যবহার করে পপকর্ন তৈরি করা যায়। বাড়তি লবণের পরিবর্তে শুকনো ভেষজ, দারুচিনি বা লেবুর রস দিয়ে স্বাদ বাড়ানো যেতে পারে।
৪. গ্রিক দই, বেরি ও আখরোট
পুষ্টিবিদ অ্যালিসন হেরিস গ্রিক দই, বেরি ও আখরোটের সমন্বয়কে পুষ্টিকর নাশতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর স্বাস্থ্যে সহায়তা করতে পারে। গ্রিক দই থেকে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম এবং আখরোট থেকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। চাইলে দইয়ের সঙ্গে কলা, দারুচিনি বা অল্প পরিমাণ বাদামও যোগ করা যায়।
পুষ্টিকর নাশতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও এটি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প নয়। পাশাপাশি লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য গ্রহণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং নির্ধারিত ওষুধ চালিয়ে যাওয়া উচিত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি