প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৪ পিএম আপডেট: ২২.১০.২০২৬ ১:৩৯ PM

জাল রায় তৈরি করে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ে দাখিল, ভুয়া সমন তৈরি, মামলার নথি আটকে রাখা এবং জেলা জজের কথোপকথন রেকর্ডসহ পাঁচটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি। এসব অভিযোগে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আরিফুল ইসলামকে গত ১৫ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালে তাঁকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অনুসন্ধানে ৫৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের একটি মামলায় সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার কথা উল্লেখ করে কর্মস্থলের বাইরে থাকার অনুমতি নিতে আরিফুল ইসলাম একটি সমন ব্যবহার করেছিলেন। অনুসন্ধানে ওই সমনের পক্ষে মূল মামলার নথি ও রেজিস্টারে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া চারটি দেওয়ানি মামলার নথি নিজের জিম্মায় নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগেও প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আরেকটি দেওয়ানি মামলায় রায় ঘোষণা না করেও দিনলিপি ও দৈনিক কার্যতালিকায় মামলাটি খারিজের তথ্য লেখা এবং পরে কথিত রায়ের কপি দাখিলের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানকারীর মতে, জেলা জজের অজান্তে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করা এবং সেই রেকর্ডিং ব্যবহার করে প্রমাণহীন অভিযোগ প্রচারের বিষয়েও প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের একটি মার্কেটের মালিকানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বিচারক আরিফুলের বিরুদ্ধে তাঁর চাচা শ্বশুরসহ অন্তত ১৫০ ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা করা হয়েছে। তবে আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ এবং আদালতে মামলা চলমান; আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর স্ত্রীও জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলার কথা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তের ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি