প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক ও প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে তাঁকে। এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে আদালত সাজা দিয়েছেন। রায়ের পর সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিচার ও রায়
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় দুদকের ১১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। গত ১৭ জুন একই আদালত সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে সিয়াম ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্তে তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি এ মামলায় সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সিয়ামের বাবা সৈয়দ আবেদ আলী পিএসসির সাবেক গাড়িচালক। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর ছেলে সিয়ামও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় দণ্ডিত হলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি